দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক জাতীয় কোনো পদার্থ মিশিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে অচেতন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চাড়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ অবস্থায় ওই পরিবারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন (৪৫), তাঁর স্ত্রী মাহিনুর বেগম (৪০) ও ছেলে তাওহীদ (১৬) পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর দীর্ঘ সময় তাঁরা অচেতন ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ট্রাংকের তালা খুলে নগদ ৭০ হাজার টাকা, মাহিনুর বেগমের স্বর্ণের কানের দুলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।
প্রতিবেশীরা জানান, সকালে পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় পরিবারের তিন সদস্যকে ঘরের বিভিন্ন স্থানে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। জাগানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছিলেন না। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘরে প্রবেশের পর ট্রাংকের তালা খোলা এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, ট্রাংকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও মাহিনুর বেগমের স্বর্ণের কানের দুল ছিল। খোঁজ করেও এসব মালামাল পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ মল্লিক বলেন, খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের তিন সদস্যকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখনও তাঁদের পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমির হোসেন বলেন, রাত ৮টার দিকে আমরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এরপর সকাল ৯টা পর্যন্ত আমাদের কোনো হুঁশ ছিল না।
ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আমির হোসেনের বড় ছেলে মিরাজ জানান, সকালে গ্রামের প্রতিবেশীদের ফোনে ঘটনাটি জানতে পারেন। বর্তমানে তাঁর বাবা, মা ও ছোট ভাই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মায়ের স্বর্ণের কানের দুলসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/